... বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক : ট্রেলারেই হতাশার চাপে

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক : ট্রেলারেই হতাশার চাপে

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক : ট্রেলারেই হতাশার চাপে 

'মুজিব: দ্য মেকিং অব আ নেশন' ছবির বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আলোচনা-সমালোচনা চলছ। ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিয়ে হতাশা ছড়ালেও পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ও কলাকুশলীরা অবশ্য জিইয়ে রাখছেন আশা।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্মের অংশ হিসেবে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে গত ১৯ মে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক 'মুজিব: দ্য মেকিং অব আ নেশন'- এর ট্রেলার প্রকাশিত হয়। তারপর থেকেই ভিডিওতে ব্যবহৃত ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, মেকআপ-গেটআপ ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। দক্ষিণ ফরাসি উপকূলের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও চলছে আলোচনা-সমালোচন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেয়ার সময় বঙ্গবন্ধুর চোখে চশমা ছিল না। কিন্তু ট্রেলারে ৫৯ সেকেন্ডে দেখা যায় তার চরিত্রে রূপদানকারী অভিনয়শিল্পী চোখে চশমা রেখেই সেই ভাষণ দিচ্ছে। ট্রেলারের ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডে যে পতাকা দেখা যায় তা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল না। ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে যুদ্ধবিমানের যে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস তার মান নিয়ে হাসাহাসি করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ। এছাড়া ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে বঙ্গবন্ধু চরিত্রের মুখে 'বাংলাদেশ-ভারত ভাই ভাই' সংলাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। সব মিলিয়ে যে প্রশ্নটা বড় হয়ে উঠেছে তা হলো-দুই দেশের প্রযোজনায় বিশাল বাজেটে নির্মিত ছবির ট্রেলার কেন এত নিম্নমানের হবে? ছবিটি নির্মাণে পর্যাপ্ত গবেষণার অভাব স্পষ্ট বলে মন্তব্য অনেকের। এছাড়া গল্পটি ভারতকেন্দ্রিক বলেও আগাম অনুমান অনেকের।

ট্রেলার নিয়ে সমালোচনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। ট্রেলার নিয়ে এতটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে বিস্মিত তিনি। ভারতের দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের দর্শকরা কেন হতাশ কিছুতেই বুঝতে পারছি না। কানে ট্রেলারটি সুন্দরভাবেই পরিবেশন করা হয়েছে। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ও তাদের রাষ্ট্রদূত ছিলেন অনুষ্ঠানে।'

শ্যাম বেনেগাল আরো বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধু নিজের পরিবারের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। ট্রেলারে তাকে সেভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে তার কথোপকথনের দৃশ্য আছে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে কারাবন্দী থাকার সময় ছাড়া তিনি পরিবারের সাথেই থেকেছেন। এ কারণেই বুঝতে পারছি না নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া কেন দেখাচ্ছে মানুষ।'

দ্য টেলিগ্রাফকে ৮৭ বছর বয়সী ভারতীয় পরিচালক বলেন, 'ছবিটি এখনো দর্শকরা দেখেনি। ৯০ সেকেন্ডের একটি ট্রেলার দেখে কোনো ছবি নিয়ে মন্তব্য করতে পারে না কেউ।'

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানও শ্যাম বেনেগালের সাথে একমত। শুধু ট্রেলার দেখে মন্তব্য করতে চান না তিনি। ডয়চে ভেলেকে বাংলাদেশের এই নির্মাতা বলেন, 'ছবি না দেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করবো না। শুধু ট্রেলার দেখে কোনো মন্তব্য করা যায় না। আগে ছবিটি দেখবো, তারপর আলোচনা বা সমালোচনার প্রয়োজন হলে করবো। এখন বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না, কারণ, ছবির কিছু অংশ কেটে ট্রেলার বানানো হয়। এটিকে ছবির বিজ্ঞাপন বলা যেতে পারে। আর এই বিজ্ঞাপন দেখে কোনো মন্তব্য করা যায় না। পুরো ছবি দেখে তারপরেই মন্তব্য করব।'

'মুজিব: দ্য মেকিং অব আ নেশন' ছবিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। কানসৈকতে বসে ডয়চে ভেলের কাছে তিনি দাবি করেন, 'আমি অফিসিয়ালি আপনাকে জানাতে পারি যে, ট্রেলারটি সবাই দেখেছে সেটি কেবলই কান চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য ছিল। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, ছবিটির মুক্তির সময় পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ আরো চার মাস পরে। সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই আমরা চার মাস আগে অফিসিয়াল ট্রেলার প্রকাশ করবো না। যেহেতু কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বৈশ্বিক একটি আয়োজনে অংশগ্রহণের সুযোগ এসেছে, তাই ট্রেলারটি খুব অল্প সময়ে তৈরি করতে হয়েছে। কারণ, দর্শককে বুঝতে হবে এখন কিন্তু ছবিটি পোস্ট প্রোডাকশনে আছে। এডিটিং প্যানেলের কর্মযজ্ঞ চলছে রাত-দিন। এর মাঝে ট্রেলারটি নিয়ে আমরা কানে অংশগ্রহণ করেছি মাত্র।'

বঙ্গবন্ধুর অসামান্য কর্মময় জীবন, সংগ্রাম ও দর্শনকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে কান উৎসবের বৈশ্বিক মঞ্চ ব্যবহার করতে চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আরিফিন শুভ যোগ করলেন, 'মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে কান উৎসবে ট্রেলার উন্মোচনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমার কথা যদি জানতে চান, ভিসা পাওয়ার পর মাত্র চার ঘণ্টা সময় পেয়েছি বিমানে ওঠার। আমাদের লক্ষ্য ছিল কান উৎসবের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সারাবিশ্বে ফিল্ম প্রফেশনালদের সামনে তুলে ধরা, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল �

Post a Comment

0 Comments